sasthoseba.com

First Health News site in Bangladesh

পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক দশটি ভাইরাস

ভাইরাস

এবোলা ভাইরাসের কথা শুনে আপনার মনে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তবে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ভাইরাস নয়। এমনকি এইচআইভি-ও নয়। তাহলে সবচাইতে বিপদজনক ভাইরাস কোনটি?
১. মারবুর্গ ভাইরাস

পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ভাইরাসের নাম মারবুর্গ ভাইরাস। জার্মানির লান নদীর পাশের শহর মারবুর্গের নামে ভাইরাসটির নামকরণ হলেও এই শহরের সঙ্গে সেটির আসলে কোনো সম্পর্ক নেই। ‘হেমোরেজিক’ জ্বর সৃষ্টিকারী এই ভাইরাসের লক্ষণ অনেকটা এবোলার মতোই, তবে এতে আক্রান্তের মৃত্যুর আশঙ্কা ৯০ শতাংশ।
২. এবোলা

এবোলা ভাইরাসের পাঁচটি ধরন রয়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং অঞ্চলের নামে এগুলোর নামকরণ করা হয়েছে: জাইরি, সুদান, তাই ফরেস্ট, বুন্ডিবিগিয়ো এবং রোস্টান। বর্তমানে গিনিয়া, সিয়েরা লিওন এবং লাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মহামারী ছড়াচ্ছে। আর এটিই এবোলার সবচেয়ে মারাত্মক সংস্করণ, যাতে মৃত্যুর শঙ্কা ৯০ শতাংশ।
৩. হেন্টাভাইরাস

হেন্টাভাইরাস বলতে অনেক ধরনের ভাইরাসকে বোঝানো যায়। ধারণা করা হয় ১৯৫০ সালে কোরিয়া যুদ্ধের সময় হেন্টা নদীর তীরে অবস্থানকালে মার্কিন সেনারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এতে আক্রান্তের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুসফুসে প্রদাহ, জ্বর এবং কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়া।
৪. বার্ড ফ্লু

বার্ড ফ্লু ভাইরাসের বিভিন্ন সংস্করণ নিয়মিতই আতঙ্ক তৈরি করছে। এটা যৌক্তিকও কেননা এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার সত্তর শতাংশ। তবে এতে সংক্রমণ সহজ নয়। শুধুমাত্র হাস-মুরগির সংস্পর্শে গেলে এতে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। এশিয়াতে এই ভাইরাস সংক্রমণের হার বেশি। কারণ সে অঞ্চলের অনেক মানুষ মুরগির খুব কাছে বসবাস করেন।
৫. লাসা ভাইরাস

নাইজেরিয়ার একজন সেবিকা প্রথম লাসা ভাইরাসে আক্রান্ত হন৷। ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। তবে ভাইরাসটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ছড়ায়। পশ্চিম আফ্রিকায় এই ভাইরাস ছড়ানোর প্রবনতা বেশি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সেখানকার ১৫ শতাংশ ইঁদুর লাসা ভাইরাস বহন করছে।
৬. জুনিন

আর্জেন্টিনার ‘হেমোরেজিক’ জ্বরের সঙ্গে সম্পৃক্ত জুনিন ভাইরাস। সমস্যা হচ্ছে এটির লক্ষণ আরো অনেক রোগের লক্ষণের মতো হওয়ায় শুরুতেই এটি সনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
৭.ক্রিমিয়া-কংগো জ্বরের ভাইরাস

ক্রিমিয়া-কংগো জ্বরের ভাইরাস ‘টিক’ পতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ায়৷ এটির লক্ষণ অনেকটা এবোলা এবং মারবুর্গ ভাইরাসের মতোই।
৮. মাচুপো ভাইরাস

বলিভিয়ার ‘হেমোরহেজিক’ জ্বরের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাচুপো ভাইরাস। এটি ‘ব্লাক টাইপুস’ হিসেবেও পরিচিত। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাত্রাতিরিক্ত জ্বর হয়, সঙ্গে শুরু হয় মারাত্মক রক্তপাত। জুনিন ভাইরাসের মতো এটির বৃদ্ধি ঘটে৷ মানুষ থেকে মানুষের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে।
৯. কিয়াসানুর ফরেস্ট ভাইরাস

ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবর্তী বনভূমিতে প্রথম ‘কিয়াসানুর ফরেস্ট ভাইরাস’ বা কেএফডি আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। সেটা ১৯৫৫ সালের কথা। এই ভাইরাস টিকের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। তবে ঠিক কারা এটা বহন করে তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ধারণা করা হয় ইঁদুর, পাখি এবং বন্য শুকর কেএফডি ভাইরাস বহন করে থাকতে পারে।
১০. ডেঙ্গু

ডেঙ্গু জ্বর এক নিয়মিত হুমকি। তাই আপনি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করলে, ডেঙ্গু সম্পর্কে আগে খোঁজ নিয়ে নিন। মশা বাহিত এই ভাইরাসে প্রতি বছর পর্যটনের জন্য বিখ্যাত থাইল্যান্ড এবং ভারতের মতো দেশে সবমিলিয়ে ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হন। তবে পর্যটকদের চেয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য এই ভাইরাস বড় হুমকি।

Updated: July 5, 2015 — 8:40 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sasthoseba.com © 2014 Sasthoseba